অজান্তেই নষ্ট হচ্ছে ঘুম? দায়ী যে বদঅভ্যাসগুলো | ডা আবিদা সুলতানা
ঘুম ঠিকমতো না হলে তার পেছনে বড় কোনো কারণ নাও থাকতে পারে—বরং দায়ী হতে পারে আমাদেরই কিছু দৈনন্দিন ছোট ছোট বদঅভ্যাস। অজান্তেই গড়ে ওঠা এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করে দেয়।
ভালো ঘুম পেতে হলে আগে চিহ্নিত করতে হবে কোন অভ্যাসগুলো এই ক্ষতি করছে। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস যেসব ক্ষতিকর অভ্যাস অজান্তেই ঘুম নষ্ট করে সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
ঘুম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার একটি অপরিহার্য অংশ। এটি শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না বরং মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং দৈনন্দিন জীবনে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের ব্যস্ততা, অনিয়ম এবং প্রযুক্তিনির্ভরতা অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে। ফলে দ্রুত ঘুম আসা এবং গভীর ঘুম নিশ্চিত করা আজ অনেকের কাছেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
রুটিন মেনে ঘুমাতে যান
ঘুমের মান উন্নত করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি নিয়মতান্ত্রিক জীবনধারা গড়ে তোলা। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে জেগে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে ঠিক রাখে। ধীরে ধীরে শরীর নিজেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের সংকেত দিতে শুরু করে। এই অভ্যাস যদি সপ্তাহের প্রতিটি দিনেই বজায় রাখা যায় তাহলে ঘুমের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
ঘন্টাখানেক আগেই দূরে রাখুন মোবাইল
ঘুমের প্রস্তুতি আসলে বিছানায় যাওয়ার অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের ব্যবহার বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কারণ এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কে ঘুমের হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে বই পড়া, নরম সুরের গান শোনা বা হালকা ধ্যানচর্চা মনকে প্রশান্ত করে এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।
ঘুমের আগে মন শান্ত করুন
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ঘুমের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি। অনেক সময় দেখা যায়, শরীর ক্লান্ত হলেও মাথায় নানা চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে, ফলে ঘুম আসে না। এ অবস্থায় দিনের চিন্তা-ভাবনা লিখে রাখা, পরদিনের কাজের একটি তালিকা তৈরি করা বা বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এতে মস্তিষ্ক কিছুটা স্বস্তি পায় এবং অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ থেকে মুক্ত হয়ে ঘুমে যেতে পারে।
ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন
সুন্দর পরিবেশও ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি নীরব, গভীর অন্ধকার এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার উপযোগী ঘর হলে সাধারণত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। অতিরিক্ত আলো বা শব্দ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দা ব্যবহার করা বা ফোন সাইলেন্ট রাখতে হবে। একই সঙ্গে ঘরের তাপমাত্রা যেন আরামদায়ক থাকে এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। অনেকের ক্ষেত্রে হালকা বৃষ্টির শব্দ মতো শব্দ শুনলেও ভালো ঘুম হতে পারে।
জোর করে ঘুমাতে যাবেন না
ঘুম না এলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করা উল্টো ফল দিতে পারে। দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থেকে অস্থির হওয়ার চেয়ে কিছু সময়ের জন্য উঠে গিয়ে কোনো কাজ করা—যেমন বই পড়া বা মৃদু সঙ্গীত শোনা—অধিক কার্যকর।
যখন ঘুমের ভাব আসে, তখন বিছানায় ফিরে যাওয়া উচিত। এতে মস্তিষ্কের সঙ্গে বিছানার একটি ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয় যা এটি দ্রুত ঘুমাতে সহায়তা করে।
খাদ্যাভ্যাস বদলে ব্যায়ামে মনোযোগী হোন
খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কার্যক্রম ঘুমের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ঘুমানোর আগে ভারী খাবার, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা নিকোটিনের ব্যবহার ঘুমকে ব্যাহত করতে পারে। তাই রাতের খাবার হালকা রাখা এবং ঘুমের আগে এসব উত্তেজক উপাদান এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে ক্লান্ত করে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে, যদিও ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করাই ভালো।
ছোট অভ্যাসেই হোক বড় পরিবর্তন
সব মিলিয়ে, ভালো ঘুম কোনো একক কৌশলের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি একটি সমন্বিত জীবনধারার ফল। নিয়মিত রুটিন, মানসিক প্রশান্তি, উপযুক্ত পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস—এই চার চর্চা একসঙ্গে কাজ করলে ঘুমের মান স্বাভাবিকভাবেই উন্নত হয়। ছোট ছোট চর্চা নিয়মিত প্রয়োগই এখানে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ঘুম এনে দেবে।
ডা আবিদা সুলতানা, Dr Abida Sultana, health, fitness, healthy life, সফলতার সূত্র, আসুন সুস্থ থাকি, মানসিক স্বাস্থ্য, asun sustho thaki, mental health
- ডা. আবিদা সুলতানা, (এমবিবিএস)
জেনারেল প্রাকটিসার, সিটি হেলথ সার্ভিসেস লিঃ এন্ড সিটি হাসপাতাল লিঃ
মেডিসিন, চর্মরোগ, বাত-ব্যাথা, শিশু ও গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ।
লেকচারার, জেড এইচ সিকদার মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল, ঢাকা।
Follow Me -
Facebook : Dr. Abida Sultana
Youtube : Dr. Abida Sultana
tiktik : Dr. Abida Sultana


No comments