মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ান যাবে সহজ ৫টি অভ্যাসে | ডা আবিদা সুলতানা
অপ্রধান হাত দিয়ে কাজ করার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। যেমন— দাঁত ব্রাশ করা, খাবার খাওয়া, দরজা খোলা বা ফোন চালানোর ক্ষেত্রে যে হাত আমরা নিয়মিত ব্যবহার করে অভ্যস্ত, সেটি না করে অন্য হাত ব্যবহার করলে মস্তিষ্ককে নতুনভাবে কাজ করতে হয়।
মস্তিষ্কও ব্যায়ামে শক্তিশালী হয়। আর যেভাবে শরীরের পেশি অনুশীলনে শক্তি পায়, তেমনি মস্তিষ্ককেও নিয়মিত নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ জানালে তা আরো তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি ভারতের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানালেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই মস্তিষ্কে নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরি হয়, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ে। আর দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্থিতিস্থাপকতাও উন্নত হয়।
অপ্রধান হাত দিয়ে কাজ করার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। যেমন— দাঁত ব্রাশ করা, খাবার খাওয়া, দরজা খোলা বা ফোন চালানোর ক্ষেত্রে যে হাত আমরা নিয়মিত ব্যবহার করে অভ্যস্ত, সেটি না করে অন্য হাত ব্যবহার করলে মস্তিষ্ককে নতুনভাবে কাজ করতে হয়। এতে মস্তিষ্কের যে অঞ্চলগুলো সাধারণত কম সক্রিয় থাকে, সেগুলোও জেগে ওঠে।
ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে অনেক বেশি সক্রিয় ও কার্যকর রাখতে সাহায্য করে। যেমন— অপ্রধান হাত দিয়ে রান্না করা বা খাওয়া, ছোট নোট লেখা, দাঁত ব্রাশ করা বা চুল আঁচড়ানো, এমনকি ড্রাম বাজানো বা পিয়ানোতে সহজ সুর তোলার চেষ্টা করা। এসব কার্যকলাপ মস্তিষ্কে নতুন স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করে, বাড়ায় মানসিক নমনীয়তা।
শুধু হাতের ব্যবহারের পরিবর্তন নয়, আরো কিছু সহজ অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। নিয়মিত ধ্যান মানসিক চাপ কমায় ও মনোযোগ বাড়ায়। শারীরিক ব্যায়াম যেমন দৌড়ানো বা দ্রুত হাঁটা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। ধাঁধা খেলা, সুডোকু বা নতুন ভাষা শেখার চেষ্টাও মস্তিষ্ককে সচল রাখে। এছাড়া আঙুলের যোগব্যায়াম, আঙুল টোকানো বা থাম্ব অপোজিশন অনুশীলনও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
প্রতিদিনের সহজ পরিবর্তনই মস্তিষ্ককে সুস্থ ও সক্রিয় রাখার মূল চাবিকাঠি।
No comments