Header Ads

মাথাব্যথা, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন | ডা আবিদা সুলতানা

 

মাথাব্যথা, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, আবিদা সুলতানা, Dr Abida Sultana, health, fitness, healthy life, সফলতার সূত্র, আসুন সুস্থ থাকি, মানসিক স্বাস

মাথাব্যথা হয়নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে সব মাথাব্যথা এক রকম নয়। মাথাব্যথা হয়নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে সব মাথাব্যথা এক রকম নয়। মাঝে মাঝেই মাথার বাম পাশে কিংবা মাথার পেছন দিকটায় ব্যথা করতে পারে। মাথাব্যথার একটা বড় কারণ হলো মাইগ্রেন। মানুষ প্রায়ই মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগে। এটি শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটির প্রভাব ব্যক্তির সামাজিক, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রেও পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে মাইগ্রেনের ব্যথা পুরোপুরি ভালো না হলেও কষ্ট কিছুটা হলেও কমানো যাবে।



লক্ষণ

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাইগ্রেনের কোনো পূর্ব লক্ষণ থাকে না। কখনো কখনো হাতে ঝলকানির মতো দেখা যায়।


১. মাথার যেকোনো একপাশে মাঝারি বা তীব্র ধরনের ব্যথা

২. বমি বমি ভাব

৩. দৃষ্টি বিভ্রম

৪. ঘাম

৫. মনোযোগহীনতা

৬. অনেক বেশি গরম বা ঠাণ্ডা লাগা

৭. পেটব্যথা বা ডায়রিয়া

কারণ

মাইগ্রেন কেন হয় তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে কিছু বিষয়কে মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। যেমন—

মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যক্রম : যখন স্নায়ু ব্যবস্থা শরীরের রাসায়নিক উপাদান এবং রক্তনালিকে আক্রান্ত করে ফেলে, তখনই এ ধরনের তীব্র ব্যথা মাথার একপাশে অনুভূত হয়। মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যক্রম মাইগ্রেন হওয়ার বড় কারণ।

হরমোনজনিত পরিবর্তন : চিকিৎসকদের মতে ঋতুচক্রের সময় নারীরা বেশি মাইগ্রেনে ভোগেন। আবেগ বা অন্যান্য কারণও মাইগ্রেনের পেছনে ভূমিকা রাখে। যেমন—মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, হঠাৎ পাওয়া আঘাত ইত্যাদি।

শারীরিক কারণ : শারীরিক বিভিন্ন কারণেও অনেক সময় মাইগ্রেন হতে পারে। যেমন—ঘুম কম হওয়া বা না হওয়া, হঠাৎ করে অতিরিক্ত পরিশ্রম করা ইত্যাদি।

পরিবেশগত কারণ : পরিবেশগত কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে। হঠাৎ করে গরম থেকে ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডা থেকে গরম পরিবেশে গেলে মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হতে পারে।৷


চিকিৎসা

মাইগ্রেনের আসলে সে ধরনের কোনো চিকিৎসা নেই। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে থেকে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন মাইগ্রেনকে এড়িয়ে চলতে অনেকাংশে সাহায্য করে।

 প্রতিদিন একই সময় ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে

 প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম হতে হবে

 অতিরিক্ত আলো বা কম আলোতে কাজ করা যাবে না

 তীব্র ঠাণ্ডায় অথবা অতিরিক্ত রোদে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে

 স্বাভাবিক শব্দের চেয়ে বেশি শব্দ অথবা অতিরিক্ত কোলাহলপূর্ণ এলাকা পরিহার করতে হবে

 মোবাইলের সামনে থাকা যাবে না


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

 তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে যদি বমি বমি ভাব হয়

 এক মাসে যদি পাঁচবারের বেশি মাইগ্রেনের ব্যথায় ভোগেন

 মুখ বা হাতের যেকোনো এক অংশ যদি প্যারালাইজড হয়ে যায় বা যদি শারীরিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

 কথা বলার সময় যদি কথা অস্পষ্ট হয় বা যদি কথা ভেঙে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

 মাথাব্যথার সঙ্গে যদি তীব্র জ্বর থাকে


মাইগ্রেনের ব্যথা হলে উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

No comments

Powered by Blogger.