বিষন্নতা : একটি আত্মঘাতী মানসিক রোগ || ডা. আবিদা সুলতানা || Depression: A Suicidal Mental Illness || Dr. Abida Sultana
আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক উপসর্গগুলো চোখে পড়ে না। প্রায়ই দেখা যায় রোগীর নানা রকম শারীরিক উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে। অনেকে আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে। আবার অনেকে আত্মহত্যার করেও। অনেকে আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচেও যায়। বিষন্নতা আত্মহত্যার একটি অন্যতম প্রধান কারণ।
উপসর্গ :
২.মন ভালো লাগেনা
৩. নিঃসঙ্গতা
৪. আগ্রহের অভাব
৫. মনোযোগের অভাব
৬. কৌতূহলের অভাব
৭. কান্নার প্রবণতা
৮. কর্ম ক্ষমতা হ্রাস
৯. অপরাধবোধ
১০. অসহায় বোধ
১১. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিহা
১২. নিজেকে সব কিছুর জন্য অযোগ্য মনে করা
১৩. আত্মহত্যার প্রবণতা বা চেষ্টা
১৪. অনিদ্রা
১৫. ওজহ্রাস
১৬. সকালের চেয়ে বিকেলে ও সন্ধ্যায় মন একটু ভালো থাকে
১৭. মহিলাদের মাসিকের অনিয়ম
১৮. অনীক বিশ্বাস
১৯. বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তা।
কখন বিষণতার সন্দেহ হবে : যখন নানাবিধ শারীরিক উপসর্গের কোনো দৈহিক ভিত্তি বা কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না, অথচ রোগী নিজেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ মনে করে এবং এর জন্য চিকিৎসা নিতে চায়। দিনের পর দিন রোগী ডাক্তারের দারে দারে ঘুরেও স্থায়ী কোন সমাধান পাবে না, তখনই চিন্তা করতে হবে সে বিষন্নতায় আক্রান্ত।
বিষন্নতার কারণ :
বংশগত : সাধারণ মানুষের চেয়ে রোগীর পরিবারে এই ব্যাধি বেশি দেখা যায়। বিষন্নতা রোগের সাথে মানুষের দেহের কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত 'ক্রোমোজোম-৬' এর 'এইচ এল এ' এন্টিজান এর একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্যও এই রোগ হতে পারে। যেমন উচ্চ রক্তচাপের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি বহুদিন ব্যবহার করলে বিষন্নতা দেখা দেয়।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ : ছোটবেলা থেকেই অনেকের ব্যক্তিত্বটা এরূপ যে সামান্য কিছু ঘটলেই সে কেঁদে ফেলে অথবা সামান্য ব্যাপারেই অনেক হাসে। তাদের পরবর্তী জীবনে এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, বাবা মায়ের আলাদা বসবাস, অযত্ন বা অনেক বেশি সুরক্ষিত শৈশব পেলে এ ধরনের রোগ হতে পারে।
সামাজিক কারণ : যারা কোনো কাজকর্ম করে না তারাই বিষন্নতার রোগে বেশি ভোগে। যে সমস্ত মহিলাদের স্বামী বিদেশে থাকে এবং ওই মহিলারা শ্বশুরবাড়িতে বা একাকী থাকে, বেশিরভাগ তাদেরকেই বিষন্নতার রোগ আক্রমণ করে। যে বাবা-মায়ের ছেলেরা বড় হয়ে চাকরি বা ব্যবসার জন্য বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকে এবং মেয়েরা বড় হলে বিয়ে দিয়ে দেয়, সে ক্ষেত্রে বাবা-মা একেবারেই একা হয়ে পড়েন এবং তাদের বিষন্নতা আক্রমণ করে।
চিকিৎসা : রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের আন্তরিক সম্পর্ক তৈরী করে নির্দিষ্ট সময়ে বা মেয়াদে একটি বিশেষ নিয়মের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এটি করতে হবে। রোগীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করতে হবে। কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে তার নিজেকে নিয়ে তার যে হতাশা তা দূর করতে হবে। রোগীর পরিবার ও সহকর্মীদেরকে এই রোগ সম্পর্কে জানাতে হবে যেন তারা সাধারণ ধারণা পায় এবং তারা তাকে মানসিকভাবে সমর্থন দিতে পারে।
বিষন্নতা বিষয়ে কয়েকটি মূল্যবান কথা :
১. বিষন্নতার জন্য সর্বদা পারপার্শ্বিকতাকে দায়ী করা যাবে না। সামান্য কারণ কিংবা বিনা কারণেও এটি হতে পারে।
২. বিষন্নতা রোগের বৈজ্ঞানিক ও সহজ চিকিৎসা সম্ভব। দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে সাইকিয়াট্রিক বিভাগ আছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৩. বিবাহ এ রোগের চিকিৎসা নয়। সুতরাং বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হলেই যে তাকে বিয়ে দিলে এই সমস্যার সমাধান হবে তা কিন্তু না।
৪. পর্যাপ্ত ও সময়মত চিকিৎসাতে এই রোগ ভালো হয়।
৫. বিভিন্ন সমালোচনা, তিরস্কার, কটুক্তি রোগীর জন্য খুব ক্ষতিকর।
৬. বিষন্নতা গ্রস্থ রোগীকে কোন ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।
৭. বিষণ্নতা আত্মহত্যার একটি অন্যতম কারণ।
৮. বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বিষন্নতার প্রবণতা বাড়ে।
৯. বিষণ্নতাগ্রস্থ রোগীকে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা নিয়ে উপদেশ না দেওয়াই ভালো। রোগী এটা ভালোভাবে নিতে পারেনা।
বিষন্নতা : একটি আত্মঘাতী মানসিক রোগ || ডা. আবিদা সুলতানা
Depression: A Suicidal Mental Illness || Dr. Abida Sultana
ডা. আবিদা সুলতানা এখন নিয়মিত রোগী দেখছেন সিটি হেলথ সার্ভিসেস লিঃ এন্ড সিটি হাসপাতালে।
প্রতি শনি থেকে বৃহস্পতিবার, বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।
ঠিকানা - ৭৭২/১-এ, বসিলা রোড, ময়ূরভিলা সংলগ্ন, মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ড, ঢাকা।
সিরিয়ালের জন্য কল করুন : ০১৭৪৫৬৭৬৯২৯




No comments